ইন্তেকাল : জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের আপােষহীন বীর সেনানী। ১৩৩৯ হিজরী ১৮ ই রবিউল আওয়াল মােতাবেক ১৯২০ সালের ডিসেম্বরে মহান পুরুষ তার কর্মমুখর জীবনের ইতি টেনে পরম দয়ালু প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান।
ছাত্রবৃন্দ : তিনি ছিলেন একজন সফল উস্তাদ। তিনি শুধু মাত্র তার ছাত্রদের পাঠ্য বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন না। বরং তিনি তাদের চিন্তা জগতে প্রবল দ্বীনি গায়রত সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস, আমল আখলাক সংরক্ষণ ও ভারত বর্ষের স্বাধীনতার যে আন্দোলনের সূচনা তিনি করে যান পরবর্তীতে তার সুযােগ্য ছাত্র বৃন্দ হাতে তার পরিসমাপ্তি ঘটে।
তার জগদ্বিখ্যাত শাগরিদদের মধ্যে ছিলেন, ইমামুল আছর আল্লামা আনােয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহঃ), শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ), শায়খুল ইসলাম শাব্বীর আহমদ উসমানী, মাওঃ উবায়দুল্লাহ সিন্ধী (রহঃ) প্রমুখ।
রচনাবলী : অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী হলেও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তিনি তেমন মনােযােগ দিতে পারেননি। এজন্য তার রচনাবলীর সংখ্যা বেশী নয় । কিন্তু যে কয়টি রচনা তিনি করেছেন তা তার অনুপম পান্ডিত্যের প্রমাণ বহন করে।
নিম্নে তা উল্যেখ করা হলো
সুনানে আবু দাউদের টিকা,
জুহদুল মুকিল ফি তানভীহুল মুইজ্জ ওয়াল মুযিল্ল,
*আল আদিল্লাতুল কামিলাহ ফী জাওয়াবিস সুয়ালাতিল আশারাহ,
ইজাহুল আদিল্লাহ ফী জওয়াবি মিছবাহুল আদিল্লাহ লি দাকয়িল আদিল্লাতিল আযিল্লাহ ইত্যাদি।
দেওবন্দের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মাহমুদুল হাসান রহঃ এর একটি ঘটনা
১৯২০ সালে ৬০ বছর বয়সে শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান(রহ) মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃতদেহ হাকিম আজমল সাহেবের আবাসস্থলে নিয়ে আসা হয়। হাকিম আজমল সাহেব ছিলেন তখনকার একজন প্রসিদ্ধ হাকিম এবং তিনি শাইখুল হিন্দের ভক্ত ছিলেন। তার মৃতদেহ দিল্লী থেকে দেওবন্দে নিয়ে আসার পর গোসল দেওয়ার জন্য যখন তার কোমরের কাপড় সরিয়ে ফেলা হলো, তখন দেখা গেল সেখানে কোন মাংস কিংবা চর্বি নেই। এ দৃশ্য দেখে লোকেরা কান্নাকাটি শুরু করলো। মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী রহঃ সে সময়ে দারুল উলুম কলকাতায় শিক্ষকতা করতেন। তিনি যখন ঘটনাস্থলে আসলেন তখন লোকজন তাকে তাঁর উস্তাদের অবস্থা জানালেন। তা শ্রবণ করার পর মাওলানা হোসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন এবং বলেছিলেন, “শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান রহঃ” আমাকে এ ব্যাপারটা কারো কাছে প্রকাশ করতে বারণ করেছিলেন।
মাল্টার জেলে থাকা অবস্থায় ব্রিটিশরা আমার উস্তাদকে একাকী একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যেত। সেখানে তারা একটি রড যা গরম করে লাল করে রাখা হতো, তা তার কোমরে লাগিয়ে বলতো, “মাহমুদুল হাসান” ! ব্রিটিশদের পক্ষে একটি ফতোয়া দিয়ে দাও। এ নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে উনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন। কিন্তু যখনই জ্ঞান ফিরে পেতেন, তখন তিনি ঈমান্দীপ্ত কণ্ঠে বলতেন- “ব্রিটিশরা শোন ! আমি হলাম বিলাল রাঃ এর উত্তরসূরি, আমার শরীরের চামড়া গলে পড়ে যেতে পারে , কিন্তু আমি কখনোই ব্রিটিশদের পক্ষে ফতোয়া দেব না।”
হাই….!
আজ আমাদের ঈমানের ঠিকানা কোথাই
সম্পাদক: আহমদুল হক | নির্বাহী সম্পাদক : শামসুদ্দীন | বার্তা সম্পাদক: আবদুর রউফ আশরাফ
হেড অফিস: নুসাইবা মিডিয়া,খোয়াই মুখ, হবিগঞ্জ | ফোন : +880 1711-902481 ই-মেইল: info@qawmi24.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ কওমী টুয়েন্টিফোর ডটকম