
আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জলসুখা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবার কেনাবেচা এবং সেবনের অভিযোগ উঠেছে। মাদকের সহজলভ্যতায় তরুণ সমাজের একটি অংশ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একই সঙ্গে নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরির ঘটনাও বেড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলসুখা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা সেবন ও বিক্রির পাশাপাশি ইয়াবার লেনদেনও চলছে। এতে স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, কিছুদিন আগে জলসুখা ইউনিয়নে শরিয়া কমিটির উদ্যোগে জলসুখা বাজারে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাদক প্রতিরোধে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপরও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি।
এদিকে মাদকাসক্তদের নেশার টাকা জোগাড়ের প্রবণতার কারণে এলাকায় চুরির ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন বাড়িতে চুরি, মোবাইল ফোন চুরি ছাড়াও স্কুল, মাদরাসা ও হাসপাতালের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মাদক ও চুরির ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ছে। সচেতন এলাকাবাসী বলছেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জলসুখা ইউনিয়নে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মাদকের প্রবেশ ও বিস্তার রোধে নজরদারি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ব্যাপক সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। জলসুখা ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”