
টঙ্গী ময়দানে হামলাকারীরা ইহুদীদের দোসর – আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী।
ইজতেমা ময়দানে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবেনা-মাওলানা মাসরুরুল হক
গতকাল হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ডে টঙ্গী ময়দানে হামলা ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সম্মিলিত উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার উদ্যোগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন, আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী। মাওলানা জাবের আল হুদা চৌধুরী ও মাওলানা মুনতাসির আহমদ সোহান এর পরিচালনায় বক্তারা টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের বর্বর আক্রমণ ও হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও খুনিদের বিচার ও ফাঁসির দাবী করেন। সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা ওলিপুরী বলেন, সাদপন্থীদের কথিত আমীর সাদ কান্দলভী নিজেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আমীর ঘোষণা করে এবং কুরআন হাদীস বিরোধী বক্তব্য দিয়ে তাবলিগ জামাতকে বিভক্ত করেছেন। তার অনুসারী সাদপন্থীরা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ৪ জনকে হত্যা ও অসংখ্য নিরীহ মানুষকে আহত করে প্রমাণ করেছে তারা ইহুদী খৃস্টানদের দোসর। দেশের মূল ধারার মিডিয়ায় সাদপন্থী নেতাদের ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রধানের সাথে মিলে ইজতেমা বাঞ্চাল ও তাবলিগ জামাতকে ধ্বংস করার নীল নকশা তৈরীর গোপন মিটিংয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাদপন্থীরা দেশ ও ধর্মবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এদের সমস্ত কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবে।
মাওলানা মাসরুরুল হক বলেন, মিডিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে আমাদেরকে যুবায়ের পন্থী সাব্যস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, অথচ আমরা যুবায়ের পন্থী নই, আমরা ইসলাম পন্থী, তাবলীগের মূল ধারা আলমী শূরা পন্থী। যে সমস্থ সহজ সরল মুসলমান সাদ পন্থী সন্ত্রাসীদের ধোকায় পড়ে তাদের সাথে আছে, তাদেরকে বুঝিয়ে সঠিক পথে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, যারা হত্যায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
পরে মহাসমাবেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৪ টি দাবী পেশ করা হয়।
১. টঙ্গী ময়দানের খুনীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে। উক্ত ঘটনায় মামলার সকল আসামীদেরও গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. হবিগঞ্জ জেলা থেকে যে সকল সাদপন্থী টঙ্গী হামলায় জড়িত ছিল, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৩. হবিগঞ্জের সকল মসজিদে তাদের কথিত দাওয়াতী কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে।
৪. বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ও কাকরাইল মসজিদ শুরায়ী নেজাম তথা আলেমদের নেতৃত্বাধীন তাবলিগ জামাতের অধীনে রাখতে হবে।
মহাসমাবেশে হবিগঞ্জের তাবলিগের কর্মী সমর্থক, মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষকবৃন্দ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বক্তাগণ সাদ কান্দলভীকে পথভ্রষ্ট আখ্যায়িত করার পাশাপাশি আরো বলেন, অনেকেই বলেন আমরা জুবায়ের পন্থী।কিন্তু আমরা কোন পন্থী নই। আমরা ইসলাম পন্থী। আর যারা দ্বীনের নামে মানুষকে খুন করে তারা তাবলিগ কর্মী নয় সন্ত্রাসী। এই সন্ত্রাসীদেরকে সম্মিলিতভাবে রুখতে হবে। বিতর্কিত আমীর সাদ কান্দলবি কুরআন ও হাদিস বিরোধী বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্য দ্বারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। তাই কোন অবস্থাতেই তাকে বাংলাদেশে আসতে দেয়া যাবেনা।
মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, মাওলানা শামসুল হক মুসা, মাওলানা আবু সালেহ সাদি, হাফেজ মাওলানা মাসরুরুল হক, মাওলানা লোকমান সাদি, মাওলানা আব্দুল জলিল ইউসুফী, মাওলানা আবদাল হোসেন খান, মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা আইয়ুব বিন সিদ্দিক, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল লতিফ, মুফতী ওয়াজেদ আলি, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মুফতি লুৎফুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মুফতি সিদ্দিকুর রহমান, মুফতি তাফাজ্জুল হক, মাওলানা খাইরুল ইসলাম, মাওলানা মুহি উদ্দিন সালিম, মাওলানা মুতাসিম বিল্লাহ, মাওলানা আব্দুল বসীর, মাওঃ সাইদুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা তারিফ বিন শামছ, মাওলানা তৈয়বুর রহমান, আলহাজ্ব শামসুল হুদা, মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, হাফেজ মাওলানা মাসউদুর রহমান চৌধুরী বেলাল, হাফেজ মাওলানা নাজমুল হুদা চৌধুরী, মাওলানা গোলাম কাদির, মাওলানা মশিউর রহমান, মাওলানা নোমান আহমদ সাদিক, মাওলানা শায়খ গাজী নাসির উদ্দিন আল-হাদী, মাওলানা ইয়াহয়া আহমদ, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা আব্দুল করিম আজহার, মুফতি মুহসিন আহমদ, মাওলানা আহমদুল হক, মাওলানা মহি উদ্দিন আল-মোমিন, মাওলানা মহিবুর রহমান, মাওলানা হুমায়ূন কবীর, মাওলানা ওয়াসিক বিল্লাহ হিব্বান, মাওলানা চৌধুরী মাহমুদ।