
বিশ্বব্যাপী মজলুম গাজাবাসীদের আহুত হরতালের সমর্থনে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবং গণহত্যা বন্ধের দাবিতে, মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য এবং ইজরায়েলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়ে হবিগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পালিত হয়। মাওলানা মাসরুরুল হকের নেতৃত্বে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশ আজ সোমবার, বাদ আছর, হবিগঞ্জ শহরের খোইমুখ সংলগ্ন নূরুল হেরা মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোডাউন আকারে পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা ‘আমার ভাই শহীদ কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই’, ‘ইসরায়েলের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ইসরায়েলের আগ্রাসন, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’, ‘বিশ্বের মুসলিম, এক হও এক হও’—এমন স্লোগানে শহরটি মুখরিত করে তোলে। প্রতিবাদী সমাবেশ থেকে ওআইসি সদস্য ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, “ইসরায়েল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। আজ তারা ফিলিস্তিনের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যতে বড় মুসলিম দেশগুলোকেও আক্রমণ করার আশঙ্কা রয়েছে।” তারা অবিলম্বে নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় মাওলানা মাসরুরুল হক বলেন, “ইজরায়েলের বিরুদ্ধ জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ হয়ে গেছে। মাননীয় সরকার, আপনি বর্ডার খুলে দিন, আমাদের মুসলমান মুজাহিদ ভাইরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চায়। বারবার যুদ্ধ বিরতির কথা বলে তারা চুক্তি ভঙ্গ করে, এমন যুদ্ধ বিরতি আমরা চাই না, আমরা চাই ফিলিস্তিনি প্রতিটি মুসলমান ভাই-বোনদের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা। ফিলিস্তিনের রক্তের ওপর ব্যবসা হচ্ছে। বাংলাদেশে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।”
এছাড়াও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, “অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।” পরিশেষে, গাজায় মুসলমানদের পক্ষে জিহাদ করার জন্য সরকারি বাংলাদেশী মুজাহিদ ভাইদের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদ ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান হয়।